লম্বা চুলের ছেলেটাকে মনে পড়ে? সেই তিন বা চার নম্বরে একটা Rbk নিয়ে নামতো, অদ্ভুত অদ্ভুত শট খেলতো, 50-80 এর মধ্যে বেধড়ক মারতে গিয়ে আউট হতো। 42 টা ইনিংস খেলে no. 1 ODI ব্যাটসম্যান হল। তারপর ক্যাপ্টেন হল। দলের প্রয়োজনে লোয়ার অর্ডারে এলো। 85*, 91*, 87*, 39*, 47* এরকম ঝুড়ি ঝুড়ি ইনিংস খেলে যখন টিমকে হারা ম্যাচ জিতিয়ে ফিরতো, তখন মন খারাপ হতো, ইশ আর একটু আগে নামলে একটা 50/সেঞ্চুরি লেখা থাকতো ওর নামের পাশে। কিন্তু সেসব নিয়ে উনি কখনোই ভাবেননি। নাহলে 90 টা টেস্ট খেলা এই ভদ্রলোক, যিনি দেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কিপার ব্যাটসম্যান, তিনি 100 টেস্ট না খেলে আচমকা অবসর নিতেন না।
এনার বর্ণময় ক্রিকেট কেরিয়ার নিয়ে কিছু বলার নেই। আজ বরং এনার জীবনদর্শন টা একটু দেখা যাক :-
১. একবার এনার পরীক্ষার মাঝেই অফিস লীগের ম্যাচ পড়লে এনার বাবা এনাকে বলেন, "আগার পুরা সাল পাড়হাই কিয়ে হো, তো একদিন মে ফারাক নেহি পড়েগা, পুরা সাল পড়হাই নেহি কিয়ে হো, তো ভি একদিন মে ফারাক নেহি পড়েগা।" অর্থাৎ সহজ কথায়, "Rome was not built in a day." এই কথাটা মাথায় রেখেই 2008 সিবি সিরিজ থেকে তিনি 2011 বিশ্বকাপের দল তৈরি শুরু করেন। ফলাফল সবাই জানে।
২. অবশ্যই cool mind, বিপদের সময় মাথা ঠান্ডা রাখতে পারলে সহজেই বিপদ থেকে মুক্তির পথ পাওয়া যায়। মানুষের তার ইমোশন এর উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা উচিত। ইমোশনাল হয়েই জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলগুলো মানুষ করে। ইমোশন কন্ট্রোল করতে পারলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
৩. তিনি নিজেই বলেছেন, "If you really had not a dream, you can't really push yourself; you can't really know what the target is." টার্গেট না থাকলে কেউই নিজেকে মোটিভেট করতে পারে না।
৪. তাঁর উত্থানের পিছনে তার বন্ধুদের ভূমিকা এখন সবারই জানা। তিনি কিন্তু অকৃতজ্ঞ এর মত বন্ধুদের ভুলে যাননি। 2012 সালে তার চার বন্ধুর অন্যতম সন্তোষ যখন মৃত্যুর সাথে লড়ছে, তখন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তাকে air ambulence এ রাঁচি থেকে দিল্লি উড়িয়ে আনেন।
৫. তিনি তথাকথিত aggresive ক্যাপ্টেনদের মতো ওভার থ্রো বা এক্সট্রা রানে বিচলিত না হয়ে সেগুলো পার্ট অফ গেম ভেবে মেনে নেন। এভাবেই খারাপ সময়ে আমাদের বিচলিত না হয়ে সেগুলো পার্ট অফ লাইফ বলে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
৬. এখনকার যুগে যেমন দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা শ্রীলঙ্কার সাথে পেটিএম ট্রফি জিতে ক্যাপ্টেন রা লাফালাফি, হুঙ্কার করেন, সেসব তিনি কিছুই করতেন না। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে away সিরিজে পন্টিং এর ভয়ঙ্কর অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে যখন 13 বলে 1 বাকি, তখন তিনি ক্রিজে থাকা রোহিত আর উত্থাপ্পা কে মেসেজ দেন যেন জেতার পর কোনো সেলিব্রেশন না করা হয়, কারন টিম ইন্ডিয়া যোগ্য টিম হিসেবে জিতছে, ভাগ্যের সাহায্যে নয়। অস্ট্রেলিয়াতে এসে রিকি পন্টিং এর টিমকে হারিয়ে জয়ী দলের মেম্বারদের অত্যন্ত শান্ত ভাবে হ্যান্ডশেক দেখে পুরো অজি দলের কনফিডেন্স যে নড়ে গেছিল সেটা গিলক্রিস্ট পরে স্বীকারও করেন।
ইরফান খানের ডায়লগ টি এনার ক্ষেত্রে একটু চেঞ্জ হবে, "দুনিয়া কা হার ট্রফি বাহো মে হে"। তার কারণ, মহব্বত কে সাথ জিদ ভি থা, দুনিয়া কো ইয়ে দিখানে কা জিদ কে ছোটে শহর কা লোগ ভি বড়া আদমি বন সকতা হে।
ছবির এই বুড়োটা প্রত্যেক ছোট শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের কাছে দৃষ্টান্ত। যেভাবে রেলওয়ের সামান্য টিকিট কালেক্টর কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে ট্রফি কালেক্টর হয়ে উঠলেন তা অনেকের কাছেই inspiration
You may hate him, but you can't hate his philosophy. He is 'Captain India'– an avenger of cricket.
সবশেষে এটুকুই বলবো : From long hair to white beard―our generation has grown up.

Comments
Post a Comment
Thank you, Stay connected & subscribe to this blog...