সোনাম ওয়াংচুক

থ্রি ইডিয়টস মুভিতে আমির খানের আসল নাম ছিলো ফুংসুখ ওয়াংরু।এই চরিত্রটি বাস্তবেই আছে এবং লাদাখে ওইরকম একটা স্কুলও আছে যেখানে কোন বই-পুস্তক পড়ানো হয়না,সব হাতে কলমে শিখে,বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয় সর্বদা এবং সফল হয় বহুলাংশে। SECMOL এডুকেশন মুভমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা এই ভদ্রলোকের নাম সোনাম ওয়াংচুক,মুভিটি তার জীবন থেকেই বানানো।ওই স্কুলে ভর্তি হতে হলে অবশ্যই ম্যাট্রিকে ফেল করতে হবে,অনেকেই বলে থাকেন University of Failures,এই স্কুলের ছাত্রদের আশ্চর্য রকমের সব আবিস্কার।ওরা মাটি দিয়ে এমনভাবে স্কুল বানায় বাইরে যখন মাইনাস ১৫ডিগ্রি সে. ভিতরে তখন প্লাস ১৫ডিগ্রি সে. থাকবে।গ্রীষ্মে লাদাখের মতো বিরান অঞ্চলে ধূ ধূ মরুভূমি,জল পাওয়া খুব মুশকিল।গরমে জল পাওয়ার জন্য সাধারণ পাইপ দিয়ে ‘আইস স্টুপা’ তৈরি করেছেন সোনাম ওয়াংচুক।দেখতে বরফের টিলার মতো,যা দিয়ে সহজে গ্রিন হাউজ এফেক্ট দূর করা যায়। তিন-চারবার ফেল করা ছাত্ররা কেউ আজ বিশ্ব সেরা সাংবাদিক,ফিল্মমেকার,স্বনামধন্য উদ্যোক্তা৷
এমনকি লাদাখের শিক্ষামন্ত্রী যিনি ম্যাট্রিকে পাঁচবার ফেল করে পরে The Himalayan Institute of Alternatives,এই স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন !।সাধারণতঃ আমরা আশায় থাকি কবে স্কুল ছুটি হবে আর এই স্কুলের বড় সাজা হলো এক সপ্তাহর স্কুল ছুটি!স্কুলটা একটা দেশের মতো।ছাত্ররা স্কুল পরিচালনা করে,নেতৃত্ব তৈরি করে,রেডিও স্টেশন সম্প্রচার করে,নিউজপেপার ছাপায় এমনকি নিজেদের খাবার নিজেরাই চাষ করে উৎপন্ন করে।সেগুলো বাজারে বিক্রি করে অর্থায়ন যোগায় আবার বছর শেষে ঘুরতেও যায়।এর মাধ্যমে ওদের অর্থনীতি,ভূগোল,জীববিজ্ঞান শেখা হয়। শিক্ষা নিয়ে রেভুল্যুসন করে সফল হওয়া এই ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন একটি ইউনিভার্সিটি করা।সেই ভার্সিটির নাম হবে ‘Doers University’,যেখানে কাজ করা হবে আবিস্কার হবে কোন পড়ালেখা হবেনা।ভারত-পাকিস্তান নিয়মিত যুদ্ধ নিয়ে তার মন্তব্যঃশিক্ষাই একমাত্র পরিবর্তন আনতে পারে।সোনাম ওয়াংচুক স্বপ্ন দেখে শুধু লাদাখ নিয়ে না পুরো বিশ্ব নিয়ে।সোনাম ওয়াংচুক এক অনুপ্রেরনার ভাণ্ডার !!!!!

Comments

Science

Popular Posts